Wednesday, September 2, 2026
গল্প • ভাবনা • মানুষ
ব্রেকিং

অর্থনীতি ও ব্যবসা

আরও আকাশছোঁয়া দাম হতে পারে iPhone, Mac, iPad! কত টাকা বাড়বে? কী ইঙ্গিত অ্যাপলের?

আরও আকাশছোঁয়া দাম হতে পারে iPhone, Mac, iPad! কত টাকা বাড়বে? কী ইঙ্গিত অ্যাপলের?

<p><strong>কলকাতা:</strong> বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা। জনপ্রিয় প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাপলের iPhone, MacBook, iPad-সহ একাধিক পণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংস্থার সিইও টিম কুক। তাঁর বক্তব্য, মেমোরি চিপ ও স্টোরেজের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো দাম ধরে রাখা আর সম্ভব হচ্ছে না।</p> <p><strong>কেন দাম বাড়তে পারে?</strong></p> <p>টিম কুক জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে বিশ্বজুড়ে DRAM ও NAND মেমোরি চিপের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গিয়েছে। বড় বড় AI সংস্থা ও ডেটা সেন্টারগুলি বিপুল পরিমাণ মেমোরি চিপ কিনে নেওয়ায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।&nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp;</p> <p>অ্যাপল এতদিন পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচের বড় অংশ নিজেই বহন করছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, গ্রাহকদের উপর কিছুটা বাড়তি খরচ চাপানো ছাড়া উপায় নেই বলে জানিয়েছেন টিম কুক।</p> <p><strong>কোন কোন পণ্যের দাম বাড়তে পারে?</strong></p> <p>যদিও অ্যাপল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নির্দিষ্ট পণ্যের নাম ঘোষণা করেনি, তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে&mdash;</p> <p>iPhone সিরিজ<br />MacBook ও Mac Mini<br />iPad<br />অন্যান্য Apple ডিভাইস</p> <p>সব ক্ষেত্রেই মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন iPhone 18 সিরিজের দাম আগের প্রজন্মের তুলনায় বেশি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।</p> <p><strong>AI বুমের প্রভাব</strong></p> <p>বিশেষজ্ঞদের মতে, Amazon, Microsoft, Google, Meta-র মতো সংস্থাগুলি AI অবকাঠামো তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। ফলে মেমোরি নির্মাতা সংস্থাগুলি AI খাতকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স শিল্পে।</p> <p><strong>ভারতীয় গ্রাহকদের উপর কী প্রভাব পড়বে?</strong></p> <p>ভারত অ্যাপলের অন্যতম দ্রুত-বর্ধনশীল বাজার। দেশে iPhone, Mac ও iPad-এর বিক্রি গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যদি আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হয়, তাহলে ভারতীয় বাজারেও iPhone ও অন্যান্য Apple ডিভাইসের দাম বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।;</p>

2026-08-20 18:02:00
যুক্তরাষ্ট্র আর্থিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে, ৪০ লাখ কোটি ডলারের ঋণের বোঝা

যুক্তরাষ্ট্র আর্থিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে, ৪০ লাখ কোটি ডলারের ঋণের বোঝা

প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন বা ৪০ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। দেশটির ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ব্যয় এবং ঋণের সুদ পরিশোধের খরচ দ্রুত বাড়লেও কর থেকে সরকারের আয় সেই তুলনায় বাড়ছে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের আর্থিক সংকটের আশঙ্কা নতুন করে জোরালো হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স এমএসএম

2026-08-20 10:09:00
সংশোধিত ঋণ বিধিমালা আগেরটির চেয়ে ভালো

সংশোধিত ঋণ বিধিমালা আগেরটির চেয়ে ভালো

তাই আমি মনে করি, বাজারসংশ্লিষ্টদের জন্য এটি আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে আরও উন্নত ও বাজারবান্ধব করার সুযোগ ছিল বলে আমি মনে করি।

2026-08-20 10:08:00
সোনা ও রুপার গহনা আজ কত টাকা ভরি

সোনা ও রুপার গহনা আজ কত টাকা ভরি

দেশের বাজারে ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনা ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে দুই লাখ ৩৭ হাজার টাকার কাছাকাছি। আর কম দামি বা সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে দেড় লাখ টাকার বেশি দামে। ভালো মানের রুপার গহনার ভরি বিক্রি হচ্ছে পাঁচ হাজার টাকার ওপরে। দেশে সোনা ও রুপার দাম নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ১৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে সোনার গহনা ও রুপার গহনার এই দাম নির্ধারণ করে। আবার নতুন দাম নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এই দামেই দেশে সোনার গহনা ও রুপার গহনা বিক্রি হবে। বাজুস নির্ধারণ করা দর অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা। আরও পড়ুন বিশ্ববাজারের সঙ্গে বাংলাদেশে সোনার দামের পার্থক্য কত? এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা। অন্যদিকে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনার দাম রাখা হচ্ছে পাঁচ হাজার ৭৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি চার হাজার ৮৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা চার হাজার ১৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি তিন হাজার ১৫৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমএএস/এমকেআর

2026-08-20 09:52:00
দুপুর ১টার মধ্যে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে

দুপুর ১টার মধ্যে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে

দেশের ৬টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিলেট, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ -পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কি.মি. বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর (পুনঃ) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। জেএইচ

2026-08-20 09:50:00
মাছে প্লাস্টিক, দুধে প্লাস্টিক, বাঙালির পাতে প্লাস্টিক সমাহার!

মাছে প্লাস্টিক, দুধে প্লাস্টিক, বাঙালির পাতে প্লাস্টিক সমাহার!

মাছ আর দুধ বাঙালির জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝাতে গবেষণার দরকার নেই। ভাতের পাশে মাছ না থাকলে দুপুর অসম্পূর্ণ, আর চায়ের কাপে দুধ না থাকলে সকাল যেন শুরুই হতে চায় না। ছোটবেলায় মায়ের কাছে শুনেছি, মাছ খেলে বুদ্ধি বাড়ে, দুধ খেলে হাড় শক্ত হয়। সেই বিশ্বাসে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মাছ ও দুধ খেয়ে বড় হয়েছি। এখন বিজ্ঞানীরা এমন খবর দিচ্ছেন যে খাওয়ার আগে একটু সাবধান হতে হচ্ছে। মাছ খেয়ে বুদ্ধি বাড়বে কি না জানি না, তবে মাছের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে ঢুকছে কি না, সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। এতদিন জানতাম মাছের মধ্যে কাঁটা থাকে। এখন জানা যাচ্ছে, পরিবেশের অবস্থা খারাপ হলে কাঁটার পাশাপাশি প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণাও মাছের শরীরে থাকতে পারে। দুধে পানি মেশানো হচ্ছে কি না, সেই সন্দেহ বহুদিনের। এখন সন্দেহের তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিকও যুক্ত হয়েছে। ভেজালের দীর্ঘ ইতিহাসে যেন নতুন অধ্যায় খুলেছে। এতদিন দুধওয়ালাকে সন্দেহ করতাম। এখন গোরুকেও সন্দেহ করতে হবে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। গোরু বেচারার অবশ্য কোনো দোষ নেই। সে ঘাস খায়, পানি খায়, আর চারপাশে যা খাবার মনে হয় তা খায়। মানুষ যে পলিথিনের ব্যাগ, প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের মোড়ক, খাবারের প্যাকেট, কাপ ও প্লেট থেকে শুরু করে সভ্যতার যাবতীয় আবর্জনা যেখানে সেখানে ছুড়ে দিয়েছে, গরু তো আর জানে না। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত এমন অনেক জায়গা আছে, যেখানে গরুকে রাস্তার পাশে আবর্জনার স্তূপে খাবার খুঁজতে দেখা যায়। সেই আবর্জনার সঙ্গে প্লাস্টিকও তার শরীরে ঢোকার সুযোগ পায়। পরিবেশে থাকা প্লাস্টিক ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়। সেই কণা মাটি ও পানিতে মিশে প্রাণীর শরীরে ঢোকে এবং খাদ্যশৃঙ্খলের নানা স্তর পেরিয়ে মানুষের কাছেও ফিরে আসতে পারে। গোরু দুধ দেয়, আমরা দুধ খাই। অর্থাৎ আমরা প্রকৃতিতে প্লাস্টিক ফেললাম, প্রকৃতি সেটি ঘুরিয়ে আমাদের সকালের নাস্তায় পাঠিয়ে দিল। প্রকৃতিরও বোধহয় এখন হোম ডেলিভারি ব্যবস্থা চালু হয়েছে। পার্থক্য শুধু, ডেলিভারি চার্জ দিতে হয় পরে, হাসপাতালের কাউন্টারে। বাঙালি মাছপ্রেমী। বাঙালি দুধপ্রেমী। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, আধুনিক বাঙালি প্লাস্টিকপ্রেমী। বাজারে যাব প্লাস্টিক। অফিসে যাব প্লাস্টিক। বেড়াতে যাব প্লাস্টিক। রেস্টুরেন্টে খাব প্লাস্টিক। হাওরে ঘুরতে যাব প্লাস্টিক। সমুদ্র দেখতে যাব প্লাস্টিক। পাহাড়ে যাব প্লাস্টিক। তারপর সেই প্লাস্টিকের বেশির ভাগই নির্দিষ্ট জায়গায় না ফেলে প্রকৃতির হাতে তুলে দেব। দেশে কোনো জায়গা পরিষ্কার থাকলে সেখানে গিয়ে সেটিকে একটু নোংরা করে আসা যেন আমাদের পর্যটন সংস্কৃতির অলিখিত নিয়ম। বাংলাদেশের নদী, খাল, বিল, হাওর ও উপকূলীয় জলাভূমির দিকে তাকালেই বোঝা যায়, প্লাস্টিকের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কতটা গভীর। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, কর্ণফুলী, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, সুরমা, কুশিয়ারা কিংবা অসংখ্য ছোট নদী ও খালের পাড়ে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেট, চিপসের মোড়ক ও নানা বর্জ্য চোখে পড়ে। শহরের ড্রেন থেকে গ্রামের খাল পর্যন্ত আমাদের ব্যবহৃত প্লাস্টিকের শেষ ঠিকানা যেন জলাশয়। বাড়ির আবর্জনা নর্দমায় ফেললাম। নর্দমা থেকে খালে গেল, খাল থেকে নদীতে, নদী থেকে মোহনায়। তারপর মাছের জগতে প্রবেশ করল। মাছ সেই পানিতে বাস করে, সেই পানিতে খাবার খোঁজে। জলজ প্রাণীর শরীরে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা ঢোকার পর সেই মাছই একদিন বরফের বাক্সে করে বাজারে আসে। আমরা মাছ কিনে বাড়ি ফিরি, মাছ ধুয়ে কেটে রান্না করি, পরিবারের সবাইকে খেতে ডাকি এবং বলি, আজ কিন্তু দারুণ টাটকা মাছ হয়েছে। টাটকা তো বটেই। শুধু সঙ্গে আমাদের সভ্যতার সামান্য স্মৃতিচিহ্নও থাকতে পারে। বাঙালির মাছপ্রেম আলাদা করে বোঝানোর প্রয়োজন নেই। রুই, কাতলা, ইলিশ, পাঙাশ, তেলাপিয়া, পাবদা, শিং, মাগুর, কৈ, বোয়াল, চিংড়ি থেকে শুরু করে অসংখ্য দেশি মাছ আমাদের খাদ্যসংস্কৃতির অংশ। নদী, খাল, বিল, পুকুর, হাওর ও উপকূল আমাদের মাছ দিয়েছে। কিন্তু সেই জলজ পরিবেশকে আমরা যত বেশি দূষিত করছি, মাছের নিরাপদ আবাসস্থলও তত সংকুচিত হচ্ছে। নদীর পানিতে শিল্পবর্জ্য, পয়োনিষ্কাশনের বর্জ্য, কৃষিজ রাসায়নিক এবং প্লাস্টিকের উপস্থিতি শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, খাদ্যনিরাপত্তারও সমস্যা। আমরা মাছ চাই, কিন্তু মাছের বাসস্থান নিরাপদ রাখতে চাই না। আমরা বাজারে টাটকা মাছ চাই, কিন্তু যে নদী থেকে মাছটি আসে সেখানে প্লাস্টিক না ফেলতে আমাদের অনেকেরই আপত্তি আছে। যুক্তিটা অনেকটা এমন, বাগানের ফুল চাই, কিন্তু গাছটিতে পানি দিতে রাজি নই। দুধের গল্পও কম আকর্ষণীয় নয়। দুধ শিশুদের খাদ্য, চায়ের সঙ্গী, মিষ্টির প্রধান উপকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু দুধ উৎপাদনের পরিবেশ, গরুর খাবার ও পানি এবং দুধ সংগ্রহ ও পরিবহনের পদ্ধতি নিয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। গরুর শরীরে প্লাস্টিক বা মাইক্রোপ্লাস্টিক কীভাবে প্রবেশ করছে এবং তার কতটা দুধে পৌঁছাতে পারে, সেটি বিজ্ঞানসম্মত গবেষণার বিষয়। তবে একটি বিষয় নিয়ে সন্দেহের খুব বেশি অবকাশ নেই। আমরা যে পরিবেশে পশু ও মানুষকে বসবাস করাচ্ছি, সেই পরিবেশ যদি প্লাস্টিকে ভরে যায়, তার প্রভাব কোনো না কোনোভাবে খাদ্যশৃঙ্খলেও পড়বে। তাই দুধে কী আছে, প্রশ্নটির উত্তর শুধু ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ফ্যাট ও ভিটামিনে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। খাবার উৎপাদনের পরিবেশও নিরাপদ রাখতে হবে। দুধের গুণমান নিয়ে যতটা চিন্তা করি, দুধ উৎপাদনকারী গরুর চারপাশের পরিবেশ নিয়ে যদি তার অর্ধেকও চিন্তা করতাম, খাদ্যব্যবস্থা হয়তো অনেক নিরাপদ হতো। বাংলাদেশে পলিথিন নিষিদ্ধ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ আছে, পরিবেশ রক্ষার আইন আছে, অভিযান আছে, জরিমানা আছে। কথাগুলো শুনলে ভালো লাগে। সমস্যা হলো, কাগজের ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব বাজারের খুব একটা মিল নেই। বাজারে গিয়ে বলুন, ভাই, পলিথিন দেবেন না। দোকানদার এমনভাবে তাকাবেন, যেন আপনি তাঁকে দোকান বন্ধ করে সন্ন্যাস নিতে বলেছেন। তারপর এমন একখানা পাতলা পলিথিন হাতে ধরিয়ে দেবেন, যার মধ্যে মাছ থেকে সবজি পর্যন্ত আরামে জায়গা হয়ে যাবে। আপনি হয়তো বলবেন, পলিথিন তো নিষিদ্ধ। দোকানদার মনে মনে বলবেন, নিষিদ্ধ হলে কী হয়েছে, আপনার বাজারটা তো আর হাতে করে নিয়ে যাবেন না। আমাদের বাজার সংস্কৃতিও প্লাস্টিকের প্রতি গভীর আনুগত্যের পরিচয় দেয়। সবজি কিনলে আলাদা প্যাকেট, মাছ কিনলে আলাদা প্যাকেট, মাংস কিনলে আরও মোটা প্যাকেট, মরিচ কিনলে ছোট প্যাকেট, ধনেপাতা কিনলে আরেকটি প্যাকেট। মাছের সঙ্গে বরফ, বরফের সঙ্গে পলিথিন, পলিথিনের সঙ্গে আরেকটি পলিথিন। মনে হয় মাছ কিনছি না, জাতীয় নিরাপত্তার নথি বহন করছি। অনলাইন থেকে খাবার অর্ডার করলে তো কথাই নেই। খাবারের প্যাকেট, তার ভেতরে আরেক প্যাকেট, সসের জন্য ছোট প্যাকেট, চামচের জন্য আলাদা মোড়ক, পানির বোতল, টিস্যু, সব মিলিয়ে খাবারের চেয়ে প্যাকেজিংয়ের পরিমাণ অনেক সময় বেশি। আমরা খাবার খেয়ে পেট ভরি, আর পৃথিবী ভরি প্লাস্টিকে। শহরের জলাবদ্ধতার সঙ্গেও প্লাস্টিক বর্জ্যের সম্পর্ক আছে। বর্ষা এলেই রাস্তা ডুবে যায়। ড্রেনের মুখ বন্ধ, খাল ভরাট, নালা আবর্জনায় পূর্ণ। তখন আমরা সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করি। কেউ সিটি করপোরেশনকে দায়ী করেন, কেউ সরকারকে, কেউ উন্নয়ন পরিকল্পনাকে। অবশ্যই নগর ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা আছে, অপরিকল্পিত উন্নয়ন আছে, খাল দখল আছে, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আছে। কিন্তু নিজেদের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের ভূমিকাও স্বীকার করতে আমরা আগ্রহী নই। যে বোতলটি সকালে রাস্তায় ফেলে দিয়েছি, সেটিই হয়তো বিকেলে ড্রেনের মুখে আটকে আছে। তারপর বৃষ্টি নামলে আমরা দাঁড়িয়ে বলছি, শহর ডুবল কেন। বোতলটি হয়তো তখন ড্রেনের ভেতর থেকে মৃদু হাসছে। বাঙালি মাছপ্রেমী। বাঙালি দুধপ্রেমী। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, আধুনিক বাঙালি প্লাস্টিকপ্রেমী। বাজারে যাব প্লাস্টিক। অফিসে যাব প্লাস্টিক। বেড়াতে যাব প্লাস্টিক। রেস্টুরেন্টে খাব প্লাস্টিক। হাওরে ঘুরতে যাব প্লাস্টিক। সমুদ্র দেখতে যাব প্লাস্টিক। পাহাড়ে যাব প্লাস্টিক। তারপর সেই প্লাস্টিকের বেশির ভাগই নির্দিষ্ট জায়গায় না ফেলে প্রকৃতির হাতে তুলে দেব। দেশে কোনো জায়গা পরিষ্কার থাকলে সেখানে গিয়ে সেটিকে একটু নোংরা করে আসা যেন আমাদের পর্যটন সংস্কৃতির অলিখিত নিয়ম। কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন, কুয়াকাটা, সাজেক, বান্দরবান, সুনামগঞ্জের হাওর কিংবা জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্যও বাড়ে। আমরা প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে যাই, তারপর সেই সৌন্দর্যের ওপর নিজেদের প্যাকেটের স্বাক্ষর রেখে আসি। আমরা প্লাস্টিক ব্যবহার করি কয়েক মিনিট। কিন্তু সেই প্লাস্টিক প্রকৃতিতে থেকে যায় দীর্ঘ সময়। সূর্য, তাপ, পানি, বাতাস ও সময় তাকে ভেঙে ছোট করতে থাকে। একসময় সে এত ক্ষুদ্র হয়ে যায় যে খালি চোখে দেখা যায় না। আর আমরা তাকে দেখতে না পেলেই নিশ্চিন্ত হয়ে যাই। যে সমস্যাকে চোখে দেখা যায়, সেটি নিয়ে হৈচৈ করি। যে সমস্যাকে চোখে দেখা যায় না, সেটিকে সমস্যা বলেই মনে করি না। ধোঁয়া দেখা যায়, তাই বায়ুদূষণ নিয়ে কথা বলি। নদীর কালো পানি দেখা যায়, তাই নদীদূষণ নিয়ে কথা বলি। কিন্তু মাইক্রোপ্লাস্টিক দেখা যায় না বলে কয়েক দিন আলোচনা করে আবার প্লাস্টিকের বোতল হাতে বাড়ি ফিরি। অদৃশ্য বিপদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইও বোধহয় অদৃশ্য। সবচেয়ে বড় ব্যঙ্গটা এখানেই। একসময় আমরা প্লাস্টিকের ব্যাগ হাতে বাজার থেকে ফিরতাম। এখন সেই প্লাস্টিকই বিভিন্ন পথ ঘুরে খাদ্যশৃঙ্খলে ফিরে আসছে। গবেষণায় মানুষের শরীরের বিভিন্ন নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনও গবেষণা করছেন। কিন্তু আমরা এমন এক বাস্তবতায় ঢুকে পড়েছি যেখানে মানুষের শরীরে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা পৌঁছাতে পারে, অথচ প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর ব্যাপারে খুব একটা উৎসাহী নই। কণা ছোট হলেই বিপদও ছোট হবে, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই। আমাদের সমস্যা এখন শুধু প্লাস্টিকের পাহাড় নয়, সেই পাহাড় ভেঙে অদৃশ্য হয়ে খাবার, পানি ও শরীরের ভেতরে ঢুকে পড়ার সম্ভাবনাও। এখন সময় প্লাস্টিককে শুধু ময়লা নয়, খাদ্যনিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের সমস্যা হিসেবে দেখার। একটি পলিথিন পাঁচ মিনিট ব্যবহার হয়, কিন্তু তার গল্প দীর্ঘ। আজ নদীতে ফেলা বোতল কাল মাছের শরীরে, পরশু আমাদের পাতে ফিরতে পারে। প্রকৃতি হয়তো তখন বলবে, তোমরা যা ফেলেছিলে, সেটাই আবার তোমাদের ফেরত দিলাম। লেখক : জ্যেষ্ঠ কলামিস্ট। এইচআর/এএসএম

2026-08-20 09:48:00
‘বিক্রয়ের জন্য নহে’ লেখা পণ্য কেনাবেচার কি বৈধ

‘বিক্রয়ের জন্য নহে’ লেখা পণ্য কেনাবেচার কি বৈধ

বাজারদরের তুলনায় কম দামে পাওয়া গেলে অনেকে সেটিকে ভালো সুযোগ মনে করে কিনে ফেলেন। প্রশ্ন হলো, বিক্রেতা কি শরিয়তসম্মতভাবে সেটি বিক্রি করার অধিকার রাখেন?

2026-08-20 09:45:00
বর্ষার বিদায়বেলায় বন্ধুসভার গানে-সুরে ভেজা সন্ধ্যা

বর্ষার বিদায়বেলায় বন্ধুসভার গানে-সুরে ভেজা সন্ধ্যা

ঢাকা মহানগর বন্ধুসভার সহযোগিতায় ১৮ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এ অনুষ্ঠানে ঢাকার বিভিন্ন বন্ধুসভার বন্ধুরা অংশ নেন।

1970-01-01 00:00:00

ব্রেকিং নিউজ ইমেইলে পান

গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও নতুন সংবাদ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।