বিদ্যুতের বিল কমানোর জন্য অনেকেই রাতে কয়েক ঘণ্টা ফ্রিজ বন্ধ করে রাখেন। অনেকে আবার সপ্তাহে একদিন ফ্রিজের সুইচ বন্ধ করে দেন। ধারণা, কিছু সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলে যেমন বিল কমবে, তেমনই যন্ত্রটিও বিশ্রাম পাবে। কিন্তু বাস্তবে প্রতিদিন এভাবে ফ্রিজ বন্ধ করে রাখা সবসময় ভালো সিদ্ধান্ত নয়। কারণ ফ্রিজের কাজই হলো নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখা এবং সেই অনুযায়ী কম্প্রেসর প্রয়োজনমতো চালু ও বন্ধ হওয়া। ফ্রিজ কি ২৪ ঘণ্টাই চালু রাখতে হয়? হ্যাঁ, সাধারণ গৃহস্থালির রেফ্রিজারেটর নিয়মিত চালু রাখার জন্যই তৈরি। তবে এর অর্থ এই নয় যে কম্প্রেসর ২৪ ঘণ্টা একটানা চলতে থাকে। ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছালে থার্মোস্ট্যাট বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কম্প্রেসর বন্ধ করে দেয়। তাপমাত্রা আবার বাড়লে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়। তাই রাতে কয়েক ঘণ্টা ফ্রিজ বন্ধ করে রেখে পরে আবার চালু করার প্রয়োজন সাধারণত নেই। বরং এতে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে এবং পুনরায় ঠান্ডা করার জন্য যন্ত্রটিকে আবার কাজ করতে হবে। আরও পড়ুন সোলার প্যানেল ব্যবহারে এসি-ফ্রিজ চালানো যায়? বিদ্যুৎ কি সত্যিই বাঁচে? ফ্রিজ কিছু সময় বন্ধ থাকলে ওই সময়টুকুতে অবশ্যই বিদ্যুৎ খরচ হবে না। কিন্তু এটিকে নিয়মিত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা যতটা স্থিতিশীল রাখা যায়, খাবার সংরক্ষণের জন্য সেটি তত ভালো। বিদ্যুৎ খরচ কমাতে বারবার সুইচ বন্ধ করার পরিবর্তে ফ্রিজের দরজা অপ্রয়োজনে না খোলা, গরম খাবার সরাসরি না রাখা, দরজার রাবার ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করা এবং সঠিক তাপমাত্রা সেট করে রাখা বেশি কার্যকর পদ্ধতি। খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি ফ্রিজ বন্ধ হয়ে গেলে ধীরে ধীরে এর ভেতরের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকলে দুধ, রান্না করা খাবার, মাংস বা অন্যান্য পচনশীল খাবার নিরাপদ তাপমাত্রার বাইরে চলে যেতে পারে। ফলে খাবারের মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়ে। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ রাখা আরও সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই শুধু বিদ্যুৎ বাঁচানোর জন্য প্রতিদিন রাতে ফ্রিজ বন্ধ করে রাখা উচিত নয়। কখন ফ্রিজ বন্ধ করা যেতে পারে? তবে এমন কিছু পরিস্থিতি রয়েছে, যখন ফ্রিজ বন্ধ করা যুক্তিসঙ্গত। যেমন- পরিষ্কার বা ডিফ্রস্ট করার সময় ফ্রিজ ভালোভাবে পরিষ্কার করার প্রয়োজন হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যায়। বরফ জমে গেলে ডিফ্রস্ট করার ক্ষেত্রেও ফ্রিজ বন্ধ রাখতে হয়। কাজ শেষ করে পরিষ্কার ও শুকনো অবস্থায় আবার চালু করতে হবে। দীর্ঘ সময়ের জন্য বাড়ির বাইরে গেলে কয়েক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় বাড়িতে কেউ না থাকলে ফ্রিজ খালি করে বন্ধ রাখা যেতে পারে। তবে শুধু সুইচ বন্ধ করলেই হবে না। খাবার বের করে ফ্রিজ পরিষ্কার ও শুকিয়ে দরজা কিছুটা খোলা রাখা ভালো, যাতে ভেতরে দুর্গন্ধ বা ছত্রাক না তৈরি হয়। আরও পড়ুন বিদ্যুৎ বিল কমাতে এসি-ফ্রিজ ব্যবহারে যেসব ভুল করবেন না মেরামতের প্রয়োজন হলে ফ্রিজে বৈদ্যুতিক সমস্যা, অস্বাভাবিক শব্দ, অতিরিক্ত গরম হওয়া বা অন্য কোনো ত্রুটি দেখা দিলে নিরাপত্তার জন্য সেটি বন্ধ করে সার্ভিসিং করানো উচিত। ফ্রিজ ভালো রাখতে কী করবেন? ফ্রিজের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে দরজা বারবার খোলা এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত খাবার গাদাগাদি করে রাখবেন না, কারণ এতে ঠান্ডা বাতাস চলাচলে সমস্যা হতে পারে। আবার একেবারে খালি ফ্রিজও দীর্ঘসময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে চালিয়ে রাখার দরকার নেই। ফ্রিজের পেছন ও আশপাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখুন, যাতে তাপ বের হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য প্রতিদিন রাতে বা সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে ফ্রিজ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। আধুনিক ফ্রিজ নিজস্ব তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী কম্প্রেসর চালু ও বন্ধ করে। তাই অকারণে সুইচ অফ করার বদলে সঠিকভাবে ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমেই বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণ করা বেশি কার্যকর। কেএসকে
Source: Jago News 24 Bangla

