প্রশ্ন: বিয়ের কি বিশেষ কোনো নামাজ আছে যা বিয়ের আকদের পর বা বিয়ের রাতে আদায় করতে হয়? এই নামাজ কত রাকাত? উত্তর: বিয়ের বিশেষ কোনো নামাজ নেই। নবীজি (সা.) বিয়ের পর বা বাসর রাতে দুই, চার, ছয়, আট বা যে কোনো সংখ্যক রাকাত নফল নামাজ নিজে পড়েছেন বা কাউকে পড়তে বলেছেন এ রকম কোনো হাদিস গ্রহণযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায় না। তবে নবীজির (সা.) সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে যে, নববিবাহিত এক ব্যক্তি স্ত্রীর সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি না হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করলে তিনি বাসর রাতে স্বামী-স্ত্রীকে একসঙ্গে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ও আল-মু’জামুল কাবিরে বর্ণিত রয়েছে, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের (রা.) কাছে এসে বললো, আমি এক নারীকে বিয়ে করেছি। কিন্তু আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে সে আমাকে অপছন্দ বা ঘৃণা করবে। উত্তরে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বললেন, পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, আর পারস্পরিক ঘৃণা ও বিদ্বেষ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। শয়তান মানুষের সামনে সেই জিনিসকে অপছন্দনীয় করে তুলতে পারে যা আল্লাহ হালাল করেছেন। আপনার স্ত্রী যখন প্রথমবার আপনার ঘরে আসবে, তখন তাকে সঙ্গে নিয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করবেন। নামাজ শেষে এই দোয়াটি পাঠ করবেন: বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক লী ফী আহলী ওয়া বারিক লাহুম ফীইয়া ওয়ারযুক্বনী মিনহুম, ওয়ারযুক্বহুম মিন্নী। আল্লাহুম্মাজমা’ বাইনানা মা জামা’তা ইলা খাইর, ওয়া ফাররিক্ব বাইনানা ইযা ফাররাক্বতা ইলা খাইর। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য আমার স্ত্রীর মধ্যে বরকত দান করুন এবং তার জন্য আমার মধ্যে বরকত দান করুন। আমাকে তার থেকে (সন্তানাদির) রিজিক দিন এবং তাকেও আমার থেকে রিজিক দিন। হে আল্লাহ! যতদিন আমাদের একসাথে রাখেন কল্যাণের ওপর একত্রিত রাখুন, আর যখন আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাবেন তখন কল্যাণের সাথেই বিচ্ছেদ ঘটান। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, তাবরানি ফিল কাবির) সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের (রা.) এই পরামর্শ অনুসরণ করে বাসর রাতে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়তে পারেন, এটা মুস্তাহাব বা উত্তম। তবে এই নামাজ পড়া ফরজ-ওয়াজিব নয়, না পড়লে গুনাহ নেই। ওএফএফ
Source: Jago News 24 Bangla

