প্রাচীন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতাগুলোর সমসাময়িক আমাদের এই ভূখণ্ড, বাংলা পিছিয়ে ছিল না। বাংলার বাণিজ্য ও উৎপাদন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেসবর বিস্তারিত উঠে এসেছে ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ নামের বইতে, লিখেছেন মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান। আজ (২২ আগস্ট) শনিবার ছিল ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ বইটির মোড়ক উন্মোচন। এ উপলক্ষ্যে বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বইটির প্রকাশনা সংস্থা রুটস। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্সের পরিচালক প্রফেসর ড. শেখ তৌফিক এম হক। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন প্রত্নতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান। শেখ তৌফিক এম হক বলেন, বাংলার ইতিহাসকে শুধু রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক অবদানকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ সেই প্রয়োজনীয় আলোচনাকে সমৃদ্ধ করবে এবং পাঠকের সামনে বাংলার ইতিহাসের একটি বিস্তৃত ও ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরবে। সুফি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের মধ্যে যে সমৃদ্ধ অতীতের পরিচয় পাওয়া যায়, তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা জরুরি। প্রচলিত ইতিহাসের বাইরে গিয়ে বাংলার নিজস্ব শক্তি, সৃজনশীলতা ও সভ্যতার অবদানকে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বইটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ বইটির লেখক রয়াল হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি (ইউকে)-এর অ্যাসোসিয়েট ফেলো, সাংবাদিক ও গবেষক মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে একটি আকর্ষণীয় উপস্থাপনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই দশকের গবেষণা ও অনুসন্ধানের মধ্যদিয়ে বইটি লেখা হয়েছে। এই বই পড়লে পাঠক জানতে পারবেন যুদ্ধ, উপনিবেশ স্থাপন কিংবা লুটপাটের মাধ্যমে নয়; বরং মেধা, শিক্ষা, দক্ষতা, শিল্প-বাণিজ্য, সৃষ্টিশীলতা ও উদার মানবিকতার মাধ্যমে বিশ্বে প্রভাব বিস্তার করেছে বাংলা। বইটিতে সেই ইতিহাসই তুলে ধরা হয়েছে।’ হাজার বছর ধরে কৃষি, বাণিজ্য, শিল্প, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলার অবদান এবং বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতা ও অঞ্চলের সঙ্গে বাংলার যোগাযোগ ও প্রভাব সম্পর্কে জানতে ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তা ছাড়া এই বই জানাবে, ইউরোপের বাজারে তখনকার বাংলায় উৎপাদিত কাপড়ের কত চাহিদা ছিল। আরব ও আফ্রিকাতেও বাংলার পণ্য ছিল সমাদৃত। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বাংলার বাণিজ্য ও সংস্কৃতির প্রভাব বিস্তৃত ছিল। আরএমডি
Source: Jago News 24 Bangla

