সব প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি আমাদের দ্বীনের সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং আমাদেরকে ভারসাম্যপূর্ণ সরল পথে পরিচালিত করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নবী ও আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। তিনি তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ বিধানসমূহ মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমাদের জন্য নেককার ও সৎ ব্যক্তিদের পথ পরিষ্কার করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবিদের ওপর শান্তি ও সালাত বর্ষণ করুন। আম্মা বা’দ নিশ্চয় উপদেশ ও সঠিক দিকনির্দেশ মানুষকে হেদায়াতের পথে পরিচালিত করে, যদি সে মনোযোগ দিয়ে তা শোনে এবং বিশুদ্ধ নিয়তে গ্রহণ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা মনোযোগ দিয়ে শোনে তারাই সাড়া দেয়। আরও বলেন, যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগ সহকারে শোন এবং নীরব থাক, হয়ত তোমাদের প্রতি রহম করা হবে। দ্বীনি ইলম অর্জন করা একটি বড় ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইলম অন্বেষণে উৎসাহ দিয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি ইলমের সন্ধানে কোনো পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। কিন্তু তিনি একই সঙ্গে নিয়তের বিশুদ্ধতার ওপর জোর দিয়েছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, যে ব্যক্তি আলেমদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা, মূর্খদের সঙ্গে তর্ক করা বা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করে, সে জান্নাতে নিজের ঠিকানা নির্ধারণ করে নেয়। আরও পড়ুন জুমার খুতবা / ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান দ্বীনি ইলম গ্রহণ করার কিছু গুরুত্বপূর্ণ আদব রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কোরআন তিলাওয়াতের সময় মনোযোগ সহকারে শোনা। আল্লাহ তাআলা বলেন, যে উপদেশ গ্রহণ করে, সে-ই স্মরণ করে; আর যে চরম দুর্ভাগা, সে তা থেকে বিমুখ থাকে; যে প্রবেশ করবে মহা অগ্নিতে। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, আল্লাহ নাজিল করেছেন উত্তম বাণী, সাদৃশ্যপূর্ণ একটি কিতাব (কোরআন), যা বারবার আবৃত্তি করা হয়। যারা তাদের রবকে ভয় করে, তাদের গা এতে শিহরিত হয়, তারপর তাদের দেহ ও মন আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয়ে যায়। এটা আল্লাহর হিদায়াত, তিনি যাকে চান তাকে এর দ্বারা হিদায়াত করেন। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোন হিদায়াতকারী নেই। (সুরা জুমার: ২৩) আর ইলম অর্জনের উদ্দেশ্য হতে হবে আমল ও দৃঢ় ইমান লাভ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি তোমার কাছে আমার নির্দেশ থেকে ‘রূহ’কে ওহিযোগে প্রেরণ করেছি। তুমি জানতে না কিতাব কী এবং ইমান কী? কিন্তু আমি একে আলো বানিয়েছি, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি। আর নিশ্চয় তুমি সরল পথের দিক নির্দেশনা দাও। সেই আল্লাহর পথ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে তার মালিক। সাবধান! সব বিষয়ই আল্লাহর কাছে ফিরে যাবে। (সুরা শূরা: ৫২, ৫৩) সুতরাং দ্বীনি ইলম অর্জন শুধু তথ্য জানার নাম নয়; এটি অন্তরকে জাগ্রত করা, চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করা এবং জীবনে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়ার নাম। বিশুদ্ধ নিয়ত, মনোযোগী শ্রবণ, আল্লাহভীতি, আমলের দৃঢ় সংকল্প এসবের সমন্বয়েই ইলম বরকতময় হয়। আরও পড়ুন জুমার খুতবায় যা বলতেন বিশ্বনবি (সা.) আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। আল্লাহ তাআলা বলেন, বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান? নিশ্চয় জ্ঞানীরা উপদেশ গ্রহণ করে। আল্লাহ আমাদেরকে কোরআনের মাধ্যমে বরকত দান করুন, এতে যে আয়াতসমূহ ও সুস্পষ্ট বাণী রয়েছে তার দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন। আর আমি ও আপনাদের জন্য এবং সকল মুসলমানের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। ওএফএফ

Source: Jago News 24 Bangla